সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উদযাপন হয়েছে। এছাড়াও দিবসটিতে পৃথক র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) নগরের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন সিলেট ও আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান মে দিবস কেবল একটি দিবস নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের ত্যাগ, সংগ্রাম ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য ইতিহাস।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের দারিদ্র্য বিমোচন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান সর্বাধিক, তাই তাদের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মহান মে দিবস আমাদের সমাজে সমতা, সাম্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার সকলকে শ্রমিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকের রক্ত, ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়েই একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অগ্রগতির পথ আরও সুগম হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদেরও মালিকের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হতে হবে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ।
আলোচনা সভায় সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি নাজের আহমদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন, আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক অধীর চন্দ্র বালাসহ সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে রিকাবী বাজারে এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
এছাড়াও সিলেট সিটি করপোরেশন ও হোটেল রেস্তোরা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং চা শ্রমিকরা দিবসটিকে পৃথক র্যালী বের করে।
মে দিবসে চা শ্রমিকদের র্যালীতে অংশ নেন বাণিজ্য ও শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দিবসটি উপলক্ষে নগরের কোর্ট পয়েন্টে শ্রমিক সমাবেশ করেছে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া। সাধারণ সম্পাদক আনছার আলীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি মো. খোকন আহমদ, সিলেট জেলা সমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মীর মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন, সহ-সভাপতি শাহীন আহমদ, জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি জয়নাল মিয়া, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ ভূইয়া প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, হোটেল রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা সারা বছর মালিকের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মুনাফা তৈরি করে। কেবল মে দিবস আসলে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার প্রদান করতে মালিকরা নানা টালবাহানা করে থাকেন। শ্রমিকরা হোটেলে দৈনিক ১০/১২ ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম করে অর্ধাহার-অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। শ্রম আইনে ৮ ঘন্টা কাজ ও অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান থাকলেও বাস্তবিকভাবে হোটেল সেক্টরে তা কার্যকর নেই।
দাবি ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রাম ব্যতীত আর কোনও পথ নেই মনে করেন বক্তারা। তাই মহান মে দিবসের বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানান নেতৃবন্ধ।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির ২নং বার লাইব্রেরী হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন