দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কলকারখানা পর্যায়ক্রমে চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকরা ভালো থাকলে, কৃষকরা ভালো থাকলে, তবেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে এই দেশ ভালো থাকবে।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র কয়েক বছর আগেও এই রাজপথে বা দালানের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে গেলে স্বৈরাচারের বাহিনী হামলা চালাত। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ থেকে স্বৈরাচারকে চিরতরে বিদায় করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী সরকার দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে। শিল্প কলকারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক ও নারীসহ দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোন কোন কারখানা চালু করা যায়, তার একটি তালিকা করা হচ্ছে। যারা কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের কর্মের ব্যবস্থা করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা শুরু করেছি। তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দেশে যাতে নতুন কারখানা গড়ে ওঠে, সেই বিষয়ে আমরা তাদের উৎসাহ দিচ্ছি। দেশে কলকারখানা তৈরি হলে লাখো বেকারের কর্মসংস্থান হবে।
যানজট নিরসনে হকার উচ্ছেদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের চলাফেরার সুবিধার জন্য হকারদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটি আমরা বুঝি। কিন্তু হকারদেরও পরিবার আছে, তাদেরও খেয়ে-পরে বাঁচতে হবে। তাই শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, তাদের কর্মসংস্থান বা ব্যবসার বিকল্প ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং ‘নতুন কুঁড়ি’র কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের পানির অভাব দূর করতে গ্রামে গ্রামে পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। এছাড়া শ্রমিক-কৃষক-শিক্ষক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষেনের ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে দেওয়া ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের কথাও এসময় তিনি পুনরুল্লেখ করেন।
দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে দেশবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তাদের ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। যারা চায় না বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, তারা নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি দেশের সকল শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার এবং শক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সবাইকে ‘দেশ গড়ার শ্রমিক’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজ থেকে আমাদের স্লোগান হবে— দেশ গড়ার কাজ, সবার আগে। আমাদের প্রথম বাংলাদেশ, শেষও বাংলাদেশ।