চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ৩৯ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জনই মহানগর এলাকার বাসিন্দা এবং জেলার ১৫টি উপজেলায় ভর্তি হয়েছেন ২ জন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মহানগর এলাকাকেই সংক্রমণের মূল কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৭৩১টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও কম নয়। এ পর্যন্ত ৮৬৮ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২৫ জন। এতে মহানগরীর হাসপাতালগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে ৩৭ জনের নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৭৩১ জনের নমুনা পাঠানো হলো, যার মধ্যে নগরের ৫৯৫ জন এবং উপজেলার ১৩৬ জন।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬৪৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ডেঙ্গু কর্নারকে হাম কর্নার করা হয়েছে। সেখানে শয্যাসংখ্যা ৫০টি। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কোভিড ব্লককে হাম কর্নার করা হয়েছে। সেখানে শয্যাসংখ্যা ৮টি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ ৬ শয্যার আলাদা কর্নার রয়েছে।