নিজস্ব প্রতিবেদন
সানজিদা আক্তার টিনা
ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পরিবারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সিলেটের এক যুবক। কিন্তু স্বপ্নের সেই যাত্রা শেষ হয়েছে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আর শূন্য হাতে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে। দেশে ফিরে তিনি শোনালেন লোমহর্ষক নির্যাতন, মানবপাচার এবং মৃত্যুভয়ের এক বিভীষিকাময় কাহিনী।
জানা যায়, সিলেটের ওই যুবক স্থানীয় এক দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে লিবিয়ায় যান। তাকে বলা হয়েছিল সেখানে ভালো বেতনের চাকরি ও সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা রয়েছে। পরিবারের জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে প্রায় কয়েক লাখ টাকা জোগাড় করেন তার স্বজনরা। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই শুরু হয় দুর্বিষহ জীবন।
তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে নিয়ে তাদের একটি নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না, সামান্য ভুল করলেই মারধর করা হতো। অনেককে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হতো।
ওই যুবকের ভাষ্য, “আমরা প্রতিদিন মৃত্যুভয়ে থাকতাম। কখন কার কী হয়, কেউ জানতাম না। অনেককে চোখের সামনে নির্যাতন করতে দেখেছি। কেউ অসুস্থ হলেও চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। পালানোর চেষ্টা করলে ভয়াবহ শাস্তি দেওয়া হতো।”
তিনি আরও জানান, কাজের নামে মরুভূমির বিভিন্ন এলাকায় জোরপূর্বক শ্রম করানো হতো। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে। কখনো কখনো সামান্য পানি নিয়েও বেঁচে থাকার লড়াই করতে হয়েছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে ছিলেন তিনি।
অবশেষে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচেষ্টায় দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি। তবে দেশে ফিরলেও তার পরিবার এখনো ঋণের বোঝা বইছে। স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট আর মানসিক ট্রমা এখনো তাড়া করে ফিরছে তাকে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশে চাকরির নামে মানবপাচার চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের টার্গেট করে দালালরা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিপজ্জনক পথে বিদেশ পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে প্রবাস ফেরত ওই যুবক দেশের তরুণদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “যাচাই ছাড়া কারও কথায় বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। স্বপ্নের খোঁজে গিয়ে যেন আর কারও জীবন নষ্ট না হয়।”
Tags:
সিলেট_সংবাদ