নিজস্ব প্রতিবেদন
সানজিদা আক্তার টিনা
দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আগামী বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বিকল্প নেই। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার এ দুই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করা হবে এবং স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে দেশের সরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে গতি আসবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হতে পারে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, নতুন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার সম্প্রসারণ এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এ দুই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক ও অর্থনীতিবিদরা। সরকারের নতুন এই ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে সরকারের এমন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। তারা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষ আরও উন্নত সেবা পাবে।
Tags:
বাংলাদেশ_বাজেট