নিজস্ব প্রতিবেদন।
নাম: সানজিদা আক্তার টিনা
দেশে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা দীর্ঘদিন ধরেই গণপরিবহন খাতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি জোরালো হয় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে। তবে অতীতে একাধিকবার ডিজেলের দাম কমানো হলেও বাসভাড়া কমানোর বাস্তব উদাহরণ খুব কমই দেখা গেছে। ফলে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—এটির যৌক্তিকতা কতটা?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেই পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। কিন্তু যখন ডিজেলের দাম কমে, তখন একইভাবে ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ তেমন দেখা যায় না। এতে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে কমানোর ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।
যাত্রীদের মতে, গণপরিবহন সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি আদায় করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ নজরদারি নেই। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপে পড়ছেন।
অন্যদিকে, পরিবহন মালিকরা বলছেন, শুধু জ্বালানি নয়—যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, শ্রমিকদের বেতনসহ নানা কারণে ব্যয় বেড়েছে। তাই তারা ভাড়া সমন্বয়ের দাবি তুলছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়া নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল নীতিমালা থাকা প্রয়োজন, যেখানে জ্বালানির দামের ওঠানামার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাড়া সমন্বয় হবে।
এ পরিস্থিতিতে ভাড়া বাড়ানোর আগে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তই হতে পারে টেকসই সমাধান।