নিরাপদ সিলেট গড়তে পুলিশ-জনজনতা একাত্ম: আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে কমিশনারের ১৫ দফা প্রস্তাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, আফসার আহমদ | সিলেট ২০ এপ্রিল, ২০২৬
সিলেট মহানগরীকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে পুলিশ এবং জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আবাসিক এলাকাসমূহের নেতৃবৃন্দের সাথে এক বিশেষ সমন্বয় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার। সভায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল পুলিশের পক্ষে এককভাবে একটি বিশাল মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ শহর গড়ার প্রধান চাবিকাঠি।
আবাসিক এলাকার জন্য ১৫ দফা নিরাপত্তা গাইডলাইন:
সভায় মহানগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতে অপরাধের ছিদ্রপথ বন্ধ করতে এসএমপি কমিশনার ১৫টি সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের প্রতি এগুলো বাস্তবায়নের জোরালো অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিম্নলিখিত নির্দেশনাসমূহ প্রদান করেন:
১. প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি আবাসিক এলাকায় সর্বোচ্চ ১-২টি নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও বাহির পথ রাখতে হবে।
২. নিরাপত্তাকর্মী: পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রতিরোধ ব্যবস্থা: প্রবেশপথে ব্যারিকেড বা বাঁশকল স্থাপন এবং সীমানা প্রাচীরে কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে।
৪. রাত্রীকালীন বিধিনিষেধ: রাত ১১টার পর বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৫. যানবাহন শনাক্তকরণ: আবাসিক এলাকায় বসবাসকারীদের যানবাহনের জন্য স্টিকার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৬. প্রযুক্তির ব্যবহার: ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত কভারেজ নিশ্চিত করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
৭. তথ্য হালনাগাদ: সকল বাসিন্দার তথ্য সিআইএমএস (CIMS)-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ভাড়াটিয়া পরিবর্তনের তথ্য থানায় জানাতে হবে।
৮. জিনিয়া (Zinia) অ্যাপ: জরুরি সহায়তা ও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিক জানাতে ‘জিনিয়া’ অ্যাপ ব্যবহারে বাসিন্দাদের উৎসাহিত করতে হবে।
৯. আলোকায়ন: অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. সতর্কতা: ডিউটিরত সিকিউরিটি গার্ডদের অবশ্যই নির্ধারিত ইউনিফর্মের সাথে লাঠি ও বাঁশি বহন করতে হবে।
সভায় উপস্থিত আবাসিক এলাকার নেতৃবৃন্দ কমিশনারের এসব প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানান এবং নিজ নিজ এলাকায় তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। কমিশনার তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
জরুরি যোগাযোগ: যেকোনো প্রয়োজনে এসএমপি কন্ট্রোল রুম (০১৩২০-০৬৯৯৯৮) অথবা কল সেন্টার (০১৩৩৯৯১১৭৪২) নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সিলেট মহানগরী হবে দেশের অন্যতম নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নগরী।
