পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের ওপরই আস্থা রাখবেন ভোটাররা, আজই তার জবাব মিলবে। ভোটের ফল গণনাকে কেন্দ্র করে যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী। শান্তিপূর্ণ গণনা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনও। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে; মোতায়েন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সোমবার (৪ মে) পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল গণনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে। রাজ্যে মোট ২৯৪টি আসন থাকলেও, এদিন ফল ঘোষণা হবে ২৯৩টি আসনে। কারণ, দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা আসনের ভোট সম্পূর্ণ বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, কয়েকটি বুথে ইভিএমে নির্দিষ্ট বোতামে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং কোথাও আতড় ব্যবহার করে ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই আসনের ভোট বাতিল করা হয়েছে। ফলতা আসনে পুনর্ভোট হবে আগামী ২১ মে এবং ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে।
ফলতা বাদ দিয়ে বাকি ২৯৩টি আসনে গণনা শুরু হয়েছে সোমবার। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হচ্ছে যারা সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় আগে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের ভোট আগে গণনা করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে প্রায় ২০ রাউন্ডে এই গণনা চলবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সকাল ১০টার মধ্যে প্রাথমিক আভাস মিলতে পারে এবং দুপুর ১২টার মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে কোন দল সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজর রয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী এবং অধীর চৌধুরী। পাশাপাশি নজরে রয়েছেন বামপন্থী শিবিরের তরুণ মুখ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও দীপ্সিতা ধর। এছাড়া আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ূন কবীরের দিকেও নজর রয়েছে। ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম-সব কেন্দ্র ঘিরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৪৭টি পেলেই যে কোনও দল সরকার গঠন করতে পারবে।
এবার পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৯২ শতাংশেরও বেশি, যা ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভোটের পর অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, যদিও একটি সমীক্ষায় শাসক দল তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও এবারের ভোট পরিচালনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে-দুই দফা মিলিয়ে চার লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভিন রাজ্যের পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে ভোট সহিংসতায় এখনও পর্যন্ত একজনেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ আরও চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হচ্ছে। আসামে ১২৬ আসনের বিধানসভায় বিজেপির পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার আভাস দিয়েছে প্রায় সব সমীক্ষা।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে অধিকাংশ সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমান শাসক দল ডিএমকে জোট ফের ক্ষমতায় আসতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দলই এগিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ২৩৪ আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৭টি আসন।
এছাড়া, কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে একাধিক সমীক্ষা। বলা হচ্ছে, প্রায় এক দশক পর সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ জোট ক্ষমতা হারাতে পারে। কেরালার বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ১৪০। সব মিলিয়ে আজই স্পষ্ট হয়ে যাবে পাঁচ রাজ্যে কোন কোন দল সরকার গঠন করতে চলেছে