জালালাবাদ নিউজ ২৪
Sylhet, Bangladesh
29°C Sunny
00:00:00
LOADING...
ALERT
Loading updates...
JN24 SERVER
CONNECTING...
● LIVE
0 VIEWERS
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...

শিরোনাম:চকরিয়ায় ১৯ বিদ্যালয়ের পাশে তামাকখেত, ঝুঁকিতে শিশুরা।


নিজস্ব প্রতিবেদন।
নাম: সানজিদা আক্তার টিনা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ব্যাপকভাবে তামাক চাষের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার অন্তত ১৯টি বিদ্যালয়ের পাশে তামাকখেত গড়ে ওঠায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। পরিবেশবিদ, চিকিৎসক ও সচেতন মহল এই পরিস্থিতিকে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য “নীরব হুমকি” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফার আশায় কৃষকরা ধান, সবজি বা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের জমিগুলোও তামাক চাষের আওতায় চলে এসেছে। তামাক চাষে নিয়মিত ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত পদার্থ, যা বাতাসে মিশে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে দূষিত করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে তামাকক্ষেত থেকে ভেসে আসা তীব্র গন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে, অনেকে মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় ভুগছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। তারা বলছেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপদ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যালয়ের পাশেই তামাকখেত থাকায় প্রতিনিয়ত বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাদের সন্তানদের। এতে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, চর্মরোগসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামাক চাষের সময় ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক উপাদান শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিই করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

এদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে তামাক চাষ বন্ধে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ খুবই সীমিত। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকির অভাব ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি।

স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। অন্যথায়, তামাক চাষের এই অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post