নিজস্ব প্রতিবেদন
নাম: সানজিদা আক্তার টিনা
হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হতেই দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকের জোগান কিছুটা হলেও বাড়বে।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা হাওরাঞ্চলে কাজ করতে আসেন। তবে চলতি মৌসুমে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিকল্প কাজের সুযোগ থাকায় অনেক শ্রমিক ধান কাটার কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন কার্যক্রমে যুক্ত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ ধান কাটার মৌসুমেও সেখানেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে না পারলে ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে করে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা সহজেই শ্রমিক পাবেন এবং সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
এদিকে, অনেক শ্রমিকও জানিয়েছেন, বালু উত্তোলনের কাজ বন্ধ থাকলে তারা ধান কাটার কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হবেন, যা কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাওরাঞ্চলের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে সময়মতো ধান কাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই শ্রমিক সংকট নিরসনে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সবমিলিয়ে, যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের সিদ্ধান্ত হাওরের কৃষকদের জন্য এক স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং তা কতটা দ্রুত কৃষকদের উপকারে আসে।