কুষ্টিয়ায় পীর আবদুর রহমান হত্যা: চার দিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা, এলাকায় উত্তেজনা
প্রতিবেদনে: আফসার আহমদ
(নিজস্ব প্রতিবেদক, জালালাবাদ নিউজ ২৪)
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজ দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রধান আসামি স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদসহ এজাহারভুক্ত চারজন ও অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জন আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নিহতের পরিবার ও অনুসারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার বিবরণ: গত সোমবার রাতে নিহত পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, রাজীব মিস্ত্রী ও মো. শিহাব। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বীভত্সতা: মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরে পীর আবদুর রহমান যখন তার দরবার শরিফে অবস্থান করছিলেন, তখন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল হামলাকারী অতর্কিত প্রবেশ করে। ১ নম্বর আসামির হুকুমে তারা দরবার শরিফে ভাঙচুর চালায় এবং পীর আবদুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড, হাঁসুয়া ও কুড়াল দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তাকে বাঁচাতে আসা দরবারের পরিচারিকা জামিরনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য: মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
জালালাবাদ নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে এই ঘটনার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।